জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে প’তিতালয়ের সবাইকে দ্বীনী পথে নিয়ে এসেছিলো তারিক জামিল

একজন বড় হুজুরের প’তিতালয় গমণ! পাকিস্তানের মুলতানের আ’লোচিত বে’শ্যালয়। সেখানে এক হুজুর প্রবেশ করলেন। প’তিতা পাড়ার দিকে হুজুরকে যেতে দেখে আশপাশের সবাই চমকে উঠলেন। কেউ তির্য’ক মন্তব্য করলেন, অবশেষে মাওলানা সাহেবও এপথে!

সহকর্মীরা হুজুরকে বার’ণ করলেন। কেউ পথ আ’টকে দাড়ালেন।কিন্তু না,তিনি সেখানে যাবেন-ই। একেক করে সহকর্মীরা সবাই তার এপথে যাওয়ার সঙ্গ ছে’ড়ে দিলেন। তারা এই পথ থেকে ফিরে এলেন। না, কোনভাবেইওখানে যাওয়া যাবে না। যাওয়ার সুযোগ নেই।দুএকজন পাঞ্জাবীর পেছনে টেনে ধরতেচেয়েছিলেন এই হুজুরকে।

কিন্তু এত বড় হুজুরকে বারণ করার সাহস কার? কেউ মসজিদে ডুকে গেলেন। সেজদায় পড়ে প্রার্থনা করতে লাগলেন। হুজুর দাওয়াত দিতে গিয়ে যেন কোন ফে’ৎনা ও ‘সমালোচনার মুখে পড়ে না যান। এই ভ’য় আ’শঙ্কা অনেককে আচ্ছন্ন করে ফেলল।

কিন্তু হুজুর ত না’ছোড় বন্দা। তিনি ইস্তেখারা করেছেন। বড়দের সাথে পরামর্শ করেই ঝু’কিটা নিলেন। নারীদের একটি বড় অংশ এখানে খা’রাপ কাজের সাথে জড়ি’ত। তারা প’তিতাবৃত্তি করে ন’ষ্ট করছে যুব সমাজকে। বি’পথগামী করছে অ’সংখ্য তারুন্যকে। এপথ রোধ করতে হবে। এই অ’ন্ধকারে তাকে আলো জ্বা’লাতেই হবে। তাদের কাছে দাওয়াত দিতেই হবে।যে কোন মূল্যে তাদের একত্রিত করে দ্বীনের কথা শুনাতে হবে।

সমাজের এই অ’বক্ষয় রোধ যে কোন উপায়ে করতে হবে। তিনি ভাবলেন, সমাজের সকল ন’ষ্ট জায়গায় যতক্ষণ পর্যন্ত হুজুর দের পা না পড়বে, ততক্ষণ সমাজ ঠিক হবে না। তিনি মুলতান প’তিতালয়ে গেলেন। তাদের স’র্দারনীর সাথে দেখা করে এলেন। বললেন আগামীকাল আমরা এতোটার সময় আসব। আপনাদের কিছু দামী জিনিস উপহার দিব। আপনি সবাইকে একত্রিত করে রাখবেন। সরদারনী ভাবল, কোন চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান বা সামাজিক সংগঠন হয়তো তাদের কোন উপহার দিতে আসবে। সে সবাইকে একত্রিত করে রাখল যথা সময়।

হুজুর সেদিন সদলবলে গেলেন। তাদের সামনে পর্দা টা’ঙিয়ে দিয়ে বললেন আমাকে তোমরা ক্ষমা করে দাও আমার আরও আগে তোমাদের কাছে দাওয়াত নিয়ে আসা উচিৎ ছিল! তারপর তিনি সবাইকে বললেন “হে মেরে” বেটি ওর বইনো”!

“মে আপকো ইজ্জতকা চাদর পরানে আয়া”। অর্থাৎ হে আমার মেয়ে ও বোন! আমি এখানে এসেছি তোমাদের ইজ্জতের চাদর পরাতে। এতটুকু বলতেই তারা কান্না’য় ভে’ঙে পড়লো। দীর্ঘ বয়ানের সময় পর্দার ওপাশ থেকে কেবল চাপা কান্না আওয়াজ আসতে থাকলো।

বয়ান শেষ হলে এরা চিৎকার করে কাঁ’দতে থাকল। সকল মেয়েরা তওবা করে মাথায় ঘুমটা দিয়ে তখনি প’তিতালয় খালি করে চলে গেল। বয়ান শুনে এবং এই দৃশ্য দেখে প’তিতালয়ের পরিচালক মাস্তানরাও আল্লাহর রাস্তায় নগদ বের হয়ে গেল। এর পর আজ পর্যন্ত মুলতানে কোন প’তিতালয় গড়ে উঠেনি। সকল মেয়েই পরে দাওয়াতের মেহনতের দ্বারা সুন্দর জীবনে ফিরে এসেছেন বলে জানা যায়। এই বড় হুজুর কে? ইনিই হচ্ছেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম মুবাল্লিগে ইসলাম (ধর্ম প্রচারক) পাকিস্তান তাবলীগ জামাতের বিশিষ্ট মুরব্বি মাওলানা তারিক জামিল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *