বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ জহির

চলতি বছর অনুষ্ঠিত হওয়া টোকিও অলিম্পিকে অ্যাথলেটিকসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন জহির রায়হান। সম্প্রতি ধর্ষণের অভিযোগে তাকে হাজতে পাঠানো হয়েছে।

গত বুধবার জহিরকে হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন গাজীপুরের শিশু ও নারীবিষয়ক ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক। তার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ-এর একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।

দেশের দ্রুততম মানব ইসমাইল হোসেনকে বাদ দিয়ে এই জহিরকেই টোকিও অলিম্পিকে সুযোগ দিয়েছিল বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। এবার ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম মন্টুর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জহির রায়হানের নৈতিক স্খলন, শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বের বেশ কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে বহিষ্কারসহ অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সকল ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এই দৌড়বিদ।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ২০১৭ সালে সাভার বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণ চলাকালে জহিরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। দেড় বছর তাদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বাদীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৯ সালের ৩ মে তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারিরীক সম্পর্ক করেন জহির।

তিনি আরো জানান, এরপর থেকে বিয়ে নিয়ে টালবাহানা শুরু করেন জহির। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। এরপর ২০১৯ সালের ৫ মে কালিয়াকৈর থানায় অভিযোগ করতে যান বাদী।

কালিয়াকৈর থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ মামলা গ্রহণ না করায় তিনি গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। এরপর আসামিকে আদালতে হাজির করার জন্য ওয়ারেন্ট জারি করেন আদালত। কিন্তু আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এর মাঝে গত ২ সেপ্টেম্বর জহিরের বিরুদ্ধে তার কর্মস্থলে আরেকজন নারী বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ-এর অভিযোগ করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে গতকাল বুধবার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জহির জামিন আবেদন করেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল তার জামিন নামঞ্জুর করে হাজতে নেয়ার নির্দেশ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *