হামলা চালিয়ে মুছে ফেলা হচ্ছে ডা. মুরাদের স্মৃতিচিহ্ন

সাজ্জাদুল আলম শাওন, জামালপুর থেকে: হামলা চালিয়ে মুছে ফেলা হচ্ছে সদ্য বিদায়ী তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের স্মৃতিচিহ্ন। জামালপুর-৪ আসনের (সরিষাবাড়ি) সংসদ সদস্য মুরাদের মানে বিভিন্ন স্থাপনায় খুদায় করা নাম ফলক ভেঙ্গে ফেলছে স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর তাকে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগ এবং সরিষাবাড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তাকে। অব্যাহতি দেওয়ার পর থেকেই তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ঘাঁটিতে চালানো হচ্ছে হামলা, মুছে ফেলা হচ্ছে স্মৃতিচিহ্ন।

আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার ভাটারা স্কুল অ্যান্ড কলেজে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. মুরাদ হাসানের মনোনীত আবুবক্কর সিদ্দিককে কলেজ থেকে প্রত্যাহারের দাবিতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীরা। একই সাথে যমুনা সার কারখানা জেটিঘাট এলাকা মুরাদের নিয়ন্ত্রিত রাজা মিয়ার বালু উত্তোলন ঘাটে হামলা চালিয় তারা।

জানা যায়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান তার বাহিনী শক্ত করতে উপজেলার প্রবীণ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তার পছেন্দের ব্যক্তিদের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব দিয়েছেন। যার কারণে দিন দিন ক্ষুভের মাত্রা বেড়েই চলছিল। প্রতিমন্ত্রী থেকে অব্যাহতির পর স্থানীয় নেতারা তার বিরুদ্ধে প্রতীবাদ করতে থাকে। এরই ফলশ্রুতিতে আজ উপজেলার ভাটারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুবক্কর সিদ্দিকের প্রত্যাহার দাবিতে অভিভাবক, এলাকার সাধারণ মানুষসহ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। জানা যায় আবুবক্কর ডা. মুরাদ হাসানের নির্বাচিত প্রতিনিধি।

এসময় বিক্ষোভকারীরা কলেজে কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। অন্যদিকে যমুনা সার কারখানা জেটিঘাট এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল প্রতিমন্ত্রী মুরাদের অনুসারীরা। সেই অবৈধ বালু উত্তোলন উপজেলা আওয়ামী লীগ সমর্থকরা হামলা চালিয়ে বন্ধ করে দেয়। অপর দিকে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সব পদ থেকে মুরাদ হাসানকে অব্যাহতি দেওয়ার পর উপজেলা দলীয় কার্যালয়ের সামনে দেয়ালে থাকা তার ছবি মুছে দেয় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, ডা মুরাদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তার বাহিনী শক্ত করতে জামায়াত- বিএনপির লোক ক্ষমতায় আনতে থাকে। তাদের দিয়ে উপজেলায় বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজি করাতেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের কখনো সম্মান করতেন না। এলাকায় তার জনসম্প্রক্ততা কম ছিল। যার কারণে আজ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *