বিএনপির বর্ণচোরা গণতন্ত্রের দিকে দেশ আর ফিরে যাবে না: ওবায়দুল কাদের

বিএনপির বর্ণচোরা ও মুখোশপড়া গণতন্ত্রের দিকে বাংলাদেশ আর ফিরে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সুর্বণ জয়ন্তীর কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে যৌথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বিএনপি রাজনীতির মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। তারা বিভিন্ন অপকৌশলে আমাদের দল ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। খালদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে তারা মনগড়া বক্তব্য দিচ্ছে।

খালেদা জিয়ার কিছু হলে এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে- বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ নয়, এর দায়-দায়িত্ব বিএনপিকে নিতে হবে। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য কেন্দ্র করে বিএনপি নেতারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার জন্য দিবাস্বপ্ন দেখছে। বিএনপি নেতাদের এ স্বপ্ন একদিন দুঃস্বপ্ন হবে। বিএনপি নেতারা কখন যে কি বলছেন তার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছেন না। এমনকি বিএনপির মহাসচিবও এখন আবোল-তাবোল বকছেন।

খালেদা জিয়া নাকি না থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে না- বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসলে বলতে চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া না থাকলে বিএনপি থাকবে না। কিন্তু তার স্লিপ অফ টান হয়ে আওয়ামী লীগের কথা বলে ফেলেছেন। তার মনের কথা ছিলো বিএনপি। কিন্তু মুখ ফসকে আওয়ামী লীগের কথা বের হয়ে গেছে।

‘খালেদা জিয়া না থাকলে আওয়ামী লীগ কেন থাকবে না, এটা একটি হাস্যকর কথা। খালেদা জিয়া না থাকলে বিএনপি থাকা- না থাকার প্রশ্ন আছে। আসলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হতাশায় ভুগছেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ এ দেশের মাটি ও মানুষের দল। এ দলের শেকড় এ দেশের মাটির অনেক গভীরে। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার উৎস বন্দুকের নল নয়, এ দেশের জনগণ। যতদিন জন্মভূমি থাকবে, সবুজের বনভূমিতে লাল সূর্যের পতাকা উড়বে, আমার সোনার বাংলা সংগীত বাজবে, যতদিন পাখিরা গান গাইবে, নদীর কলতান থাকবে, যতদিন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থাকবে, ততদিন আওয়ামী লীগ থাকবে। যতদিন এ দেশে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার কীর্তি উন্নয়ন অগ্রগতি অর্জন থাকবে, ততদিন আওয়ামী লীগ ইনশাআল্লাহ বেঁচে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির গণতন্ত্র হলো কারফিউ গণতন্ত্র। তাদের বহুদলীয় গণতন্ত্র বহুদলীয় তামাশা। ভোটারবিহীন গণতন্ত্র বিএনপির বাকরুদ্ধ গণতন্ত্র। বিএনপির বর্ণচোরা ও মুখোশ পরা গণতন্ত্রের দিকে বাংলাদেশ আর ফিরে যাবে না। বিএনপি এখন পথভ্রষ্ট বিশ্বাস হারানো এক রাজনৈতিক দল। বিনপির স্বাধীনতা মানে বিচারের রায় তাদের পক্ষে যাওয়া।

তিনি বলেন, বিএনপির নেত্রীকে পয়জনিং দিলে বিএনপির নেতারা দিয়েছে, যারা তার কাছাকাছি থাকে। আওয়ামী লীগ তার কাছে থাকে না।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দিপু মনি, মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহামুদ স্বপন, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরসহ মহানগরের নেতারা।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, উত্তর সিটি কর্পোরেশন মেয়র আতিকুল ইসলামসহ কাউন্সিলরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *