নির্মাণের এক বছরে না যেতেই বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে ফাটল!

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ঘনশ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন দুই তলা ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কে রয়েছে শিক্ষার্থী-শিক্ষকেরা। বিদ্যালয়ের দ্বি-তলা বিশিষ্ট নতুন ওয়াশব্লকের ফাটল ধরায় আতংকে রয়েছে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি সরেজমিনে উপজেলার ঘনশ্যাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এ চিত্র দেখা মিলে। বিদ্যালয়ের নতুন ভবন দিয়ে ওয়াশব্লকে প্রবেশের মুখেই এ ফাটল দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, গত বছরের জুন মাসে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় বিদ্যালয়ের নব-নির্মিত দ্বি-তলা একাডেমিক ভবনের সাথে সংযুক্ত করে। দুই তলা ভবনের ওয়াশব্লকের কাজ শেষ হয়। তবে কাজ শেষের বছর না ঘুরতে ভবনে প্রবেশের প্রধান ফটকের ওয়াশ ব্লকে ফাটল দেখা দিয়েছে। তা ছাড়া ভবনের রংও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ওই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী প্রতিবেদককে অভিযোগ করে বলেন, নতুন ভবনে ফাটল ধরায় আতঙ্কে তারা বাথরুমে যেতে ভয় পায়, অনেকে যায় না। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুন নেছা জানান, ভবনের ওয়াশ ব্লকের কাজ ভালো হয়নি। বাথরুমে কমোড ও পানির কলগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের, যা ব্যবহার অনুপযোগী।

প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেব বলেন, করোনার কারণে ছুটি শেষে বিদ্যালয় খোলার পর ওয়াশ ব্লক বুঝে নেওয়ার সময় দেখি এটি ফেটে গেছে। বিষয়টি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে জানালে তিনি এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি। বর্তমানে আমরা খুব আতঙ্কে রয়েছি।

পাশাপাশি কাজ চলাকালীন সময়ে ঠিকাদারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, আমার কাছে মনে হয় এগুলো কাজের মালামাল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দিয়েছেন। তিনিই সব করতেন।এদিকে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামের অফিসে গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পযর্ন্ত ঘুরে তাকে পাওয়া যায়নি। তার দাপ্তরিক কক্ষটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

পরে মুঠোফোনে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম জানান, একাডেমিক ভবনের সঙ্গে ওয়াশ ব্লকের জয়েন্টে ফাটল ধরেছে। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘একাডেমিক ভবনের সঙ্গে ওয়াশ ব্লকের রড দিয়ে জয়েন্ট দিয়ে কাজ করার নিয়ম নেই।

তাই করা হয়নি।’ তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী বলেছেন, মূলত ওয়াশব্লকের কলামগুলো মাটিতে একটু ডেবে গেছে,এ কারণে ভবনটি একটু ডাউন হয়েছে। ভবিষ্যৎ এ মাটি ডেবে গেলে ওয়াশব্লকের ভবনটি আরো ডেবে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভ মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *